
রাজ্য-রাজনীতিতে এখন তুমুল উত্তেজনা। ভোটের বাংলায় কেউ কাউকে সূচাগ্র জায়গা ছাড়তেও নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। ২৬-এর নির্বাচনে জিতে বাংলার মসনদে কে বসবে তা নিয়ে গণনা করা সেই কবেই শুরু করে দিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্বাচনে শাসক-বিরোধীদের মধ্যে রণকৌশল মাফিক লড়াই হবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। একে অপরের জমি নড়বড়ে করারা একাধিক চেষ্টা করবে সেটাও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এসবের মাঝে নির্বাচন কমিশন কী করছে? রাজনৈতিক দলের মাঝে কী ভূমিকা কমিশনের? কেন তাকে বারবার মাঝে নিয়ে আসছে শাসকসহ দল? তাহলে কি ভয় পেয়েছে শাসক দল? এই প্রশ্ন এর আগেও উঠেছে। আগেও দাবি করা হয়েছে এসআইআর-কে ভয় পেয়ে এসব করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সত্যিতা কি?
রবিবার সন্ধ্যায় বঙ্গ সফরে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এসেছেন ভারতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞাণেশ কুমার। কিন্তু আসার পর থেকে একাধিকবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি। রবিবার বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর পর রাস্তায় তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় একদল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিশনারের প্রতি বিক্ষোভ দেখান। সেখানে কালো পতাকা ও গোব্যাক স্লোগান দেওয়া হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। দেখা গিয়েছে, বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় নিজের গলাতেও কালো কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। রবিবারের পর সোমবারও বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
সোমবার সকালে কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে একদল মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড ও কালো পতাকা নিয়ে গো-ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও সেই ব্যক্তিদের হাতে কোনও রাজনৈতিক পতাকা ছিল না। তবে অনেকে দাবি করেছেন, তাঁরা নাকি তৃণমূলের লোক ছিলেন। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে কালীঘাটে পুজো দেন কমিশনার। সে যাই হোক, প্রশ্ন হচ্ছে কেন? কেন কমিশনের ওপর বিক্ষোভ? তিনি তো নিজের পদের দায়ীত্ব সামলাচ্ছেন। যদি সেখানে কোনও ভুল করেন তার জন্য আমাদের দেশের আইন রয়েছে। এর আগেও তো শাসকদল আইনের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের কথায় তারা সাফল্যও পেয়েছে। তাহলে এই বিক্ষোভ কেন? কেন এই কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রধানকে হেনস্থা করছে শাসকদল?
এদিকে সোমবারের সর্বদলীয় বৈঠকের পর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কমিশনারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। যার মধ্যে একটি হল- অর্থ মন্ত্রীকে ‘ডন্ট শাউট’ বলার ‘দুঃসাহস’ দেখিয়েছেন কমিশনার! আর তাতে নাকি গোটা মহিলাসমাজকে ‘অসম্মান’ করা হয়েছে। এই ‘ডন্ট শাউট’ বলাতেই নারী বিদ্বেষী বিষয় স্পষ্ট করেছে কমিশন। বলা হচ্ছে, নারী বিদ্বেষী বলেই এখানকার মহিলাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কাউকে চেঁচাতে মানা করলে সেটা অসম্মান করা হয় কীভাবে? অন্যদিকে এই এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে ভোটের বাংলায় এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনার একটা ভাল টানটান বিষয় তা বলাই বাহুল্য।
গত বছরের শেষের সময় থেকে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) শুরু হয়েছে। এই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কোথাও অভিযোগ উঠেছে, এসআইআর-এর কাজের চাপে আত্মহত্যা করেছে বিএলও। কোথাও অভিযোগ উঠেছে নাম থাকা না থাকা নিয়ে আত্মহত্যা করেছে ভোটার। অন্যদিকে কোথাও দাবি করা হয়েছে, এসব ভুতুরে ভোটার বা ঘুষপেটিয়াদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ না দেওয়ার কারণে এই ‘নাটক’ চলছে। কিন্তু এসআইআর এর রেশ এখনও বাকি। সোমবারও খবর এসেছে যে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় আত্মহত্যা করেছে ভোটার। কিন্তু এসব শেষ হবে কবে? হয়তো ভোটের ফল প্রকাশের পর, নয়তো….।।
