
তৃণমূলের ধর্না চতুর্থ দিনে ঢেউ তুলেছে রাজনীতিতে। সোমবার সন্ধ্যায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে শুরু হওয়া এই ধর্না ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অভিষেক ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আপনি যত দফার ভোট করার করুন, এবার এক দফায় ভোট করলেই হবে। গতবার করোনা পরিস্থিতিতে আট দফায় ভোট করানো হয়েছিল। কত মানুষ মৃত্যুর মুখে ঠেলা হয়েছিল, সেটা রাজ্যের মানুষ জানে। এবার মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার ব্যবহার করে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেবে।’’
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, ‘‘দিল্লি থেকে একজন আমলা ফোন করেছিলেন। বলছেন, এদের ষড়যন্ত্র আরও বৃহৎ। গরিবের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, ব্যাঙ্ক ফ্রিজ করা, সবই পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হলে বা কিওয়াইসি দিতে না পারলে মোদী সরকারের পদক্ষেপের শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঞ্চ থেকে সরাসরি প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ‘‘অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের বলব, মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে কেউ, তা হতে দেব না। বাংলাদেশ আর বাংলা এক নয়। বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব নয়।’’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমি আপনাকে ফার্স ট্রান্সফার করব। যারা আজকের পরিস্থিতিতে আমাদের বাধা দিচ্ছে, তাদের রেকর্ড থাকছে। কাল বিজেপি চলে গেলে দেখবেন কে কোথায় থাকবে।’’ তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও নিশানা করেন এবং অভিযোগ তুলেন, ‘‘এসআইআর ইস্যুতে একজন স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন, কমিশন কি খবর রেখেছে?’’
ধর্নার মঞ্চে গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও চলেছে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন গান পরিবেশন করেন, আর মঞ্চে অভিষেক ও মমতার দেখা মিলেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘কালও ধর্না চলবে। সময়মতো আসবেন।’’ রাজ্য রাজনীতির এই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে ধর্না চতুর্থ দিনেই কেন্দ্রে এসেছে জনতার ভোটাধিকার, প্রশাসনিক অভিযুক্তি এবং কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে।
