
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। তার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দক্ষিণেশ্বরে পৌঁছতেই কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন একদল মানুষ। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেই অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই জ্ঞানেশ কুমার প্রথমে বেলুড় মঠে যান। সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছন এবং প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় কাটান। বেলুড় মঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখেন এবং মঠের মহারাজদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন। বেলুড় মঠ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ হল ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের পুণ্যভূমি এবং নির্বাচন কমিশন এখানে কোনওরকম হিংসা ছাড়াই বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
তবে এরপরই ঘটনাপ্রবাহ বদলে যায়। বেলুড় মঠ থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমার দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে যান ভবতারিণীর দর্শনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই মন্দিরের সামনে কালো পতাকা হাতে বেশ কিছু মানুষকে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই নিজেদের সাধারণ মানুষ বলে দাবি করলেও রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁদের বড় অংশই তৃণমূল সমর্থক।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই প্রতিবাদেই তাঁরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ করছেন বলে দাবি করেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, মন্দিরের সামনে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত মানুষের জমায়েত হল এবং কেন আগে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকের সফর ঘিরে এই ধরনের বিক্ষোভ আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই সময়ে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে চলছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা কর্মসূচি। সোমবার সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ছে, তা বলাই যায়।
