
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেগুলির আপিল শুনতে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন এক বা একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের সদস্যসংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী প্রাক্তন বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমরা এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে দুই পক্ষের সদিচ্ছা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।” তবে একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই ইস্যুর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি নজরে রাখবে।
আদালতে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে সেই সব আবেদনকারীর আপিলের সংখ্যা বিপুল হতে পারে। আইনজীবী গোপাল এস আদালতকে জানান, যদি এই সমস্ত আপিল সরাসরি হাইকোর্টে যায়, তাহলে আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। সেই কারণেই একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে এবং তা মেনে নেয় সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে শুনানির সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত মোট প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা এখন সম্ভব।
এই বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, যেহেতু ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তাই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন আদালত জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজেরও প্রশংসা করে। আদালতে জানানো হয়, বিপুল কাজের চাপ সামলাতে অনেক অফিসারের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে এবং নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছ থেকে আর কতটা ত্যাগ আশা করা যায়?”
সুপ্রিম কোর্ট একইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। ভোটের আগে এই নির্দেশ যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
