
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হচ্ছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার মাত্র প্রথম দশ দিনে অন্তত ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই সংঘাতে সামরিক অভিযান বেড়ে গেছে এবং উভয় পক্ষই সংঘাত আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আহত সেনারা ইরানের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও ঠিক কোন অঞ্চলে হামলা ও পাল্টা হামলা ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। পেন্টাগনের উদ্বেগ রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও। এই জলপথ বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইরান সেখানে নেভাল মাইন পাতার পরিকল্পনা করছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এর উত্তরে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ১৬টি মাইন পাতার নৌকা ধ্বংস করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে বিশ্বজুড়ে শক্তি সরবরাহ ব্যাহত না হয় এবং ওই অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় থাকে।
অন্যদিকে, ইরানের বাহিনী তেল উৎপাদনকারী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। যদিও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ সম্ভবত “খুব শীঘ্রই” শেষ হবে এবং অনেকটা কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়েছে, তবে সামরিক অভিযান এখনও তীব্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হ্যাগসেথ বলেছেন, পরবর্তী পর্যায়ে হামলা আরও মারাত্মক হতে পারে। তিনি দাবি করেছেন যে, ইরানের মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা এই অভিযানেই প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা সৃষ্টি হলে তা সরাসরি বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। সামরিক পদক্ষেপ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল এবং অনিশ্চিত।
বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা, শক্তি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তাই সব দেশের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার দিকে কেন্দ্রীভূত।
