
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে ভোটমুখি বাংলায় নির্বাচনী দফতরের ফুল বেঞ্চের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তিনদিনের সফর শেষে দিল্লি ফিরেছেন। সফরের শেষদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি ভোট প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ব্যাপারে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন।
জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোট হবে আইন অনুযায়ী, প্রতিটি পোলিং স্টেশনে ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা থাকবে। ভোট প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “SIR-এর কাজ এখনও চলমান। পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি কোনও আমলা, মন্ত্রী, সরকারি কর্মী বা পুলিশ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমস্ত রাজনৈতিক দল, পুলিশ, রাজ্য মন্ত্রী ও প্রশাসনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ভোট হবে হিংসা মুক্ত।”
কমিশন সচিবরা গত ৯ ও ১০ মার্চ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। ভোট পরিচালনায় কোনও ভয় বা প্রলোভনের কাছে মাথা নত করার সুযোগ নেই। “ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলস ১৯৮০” এবং “অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস ১৯৬৮” অনুযায়ী, পক্ষপাতিত্বের ক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটারদের উৎসাহিত করতে পোলিং স্টেশনগুলোকে উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ও রেলপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভোটারদের প্রলোভন রোধে নগদ টাকা, মদ ও উপহার প্রবেশ পথ বন্ধ রাখতে পুলিশ, আবগারি, জিএসটি এবং বনদফতরের যৌথ টিম গঠন করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল অবজার্ভারদের বিবরণ সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ্য করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং-এর ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে কোনও অপপ্রচার বা ভুয়ো খবর ছড়িয়ে না পড়ে। ভোটকর্মী, পুলিশ অফিসার, মিডিয়া এবং মাস্টার ট্রেইনারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ১১ মাসে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৪,৭১৯টি সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৮,০০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
জ্ঞানেশ কুমারের এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করছে পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং হিংসা মুক্ত। রাজ্যের সমস্ত ভোটাররা আইন মেনে ভোট দিতে উৎসাহিত হওয়ার কথা।
