
Jazzbaat 24 Bangla: দীর্ঘ ১২ বছরের যন্ত্রণাময় প্রতীক্ষার অবসান। গাজিয়াবাদের ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রানাকে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি দিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোমায় আচ্ছন্ন থাকা হরিশের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম বা জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কিছু মন্তব্য করেন। আদালত জানায়, “আমাদের আজকের এই সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তির ফ্রেমে বাঁধা নেই; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, জীবন এবং হারানোর বেদনা।” হরিশের পরিবার যেভাবে গত ১২ বছর ধরে এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর পাশ থেকে সরে যায়নি, তার ভূয়সী প্রশংসা করে আদালত বলে, “কাউকে ভালবাসা মানেই হল অন্ধকারের দিনগুলোতেও তাঁর যত্ন নেওয়া।”
আদালত জানিয়েছে, হরিশকে অতি দ্রুত এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তি করতে হবে, যাতে সেখান থেকেই চিকিৎসার সরঞ্জাম বা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি যেন অত্যন্ত পরিকল্পিত হয়, যাতে হরিশের শেষ মুহূর্তের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।
রায়ে আদালত আক্ষেপ প্রকাশ করে জানায় যে, ভারতে এখনও মুমূর্ষু রোগীর শেষ মুহূর্তের সেবার বিষয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ আইন নেই। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে।
১২ বছর আগে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন হরিশ। তারপর থেকে বিছানাই ছিল তাঁর পৃথিবী। এদিন আদালতের এই রায়ে তাঁর পরিবার যেমন শোকাতুর, তেমনই প্রিয়জনকে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার এক পাক্ষিক স্বস্তিও খুঁজে পেয়েছে।
