
Jazzbaat 24 Bangla: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং মিসাইল হামলার আশঙ্কায় দলে দলে মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন। আর নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ভিটে-মাটির সঙ্গে ছেড়ে আসছেন পোষ্যদেরও। কেউ তার আদরের কুকুর, বিড়ালসহ মাছ ও কচ্ছপকেও ফেলে যাচ্ছেন বহু পরিবার। দুবাইয়ের পশু উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পরিত্যক্ত পোষ্য প্রাণীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বেড়েছে।
দুবাইয়ের ‘K9 ফ্রেন্ডস’-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের পোষ্যদের আশ্রয় কেন্দ্রে দিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। অনেকে আবার দেশ ছাড়ার আগে তড়িঘড়ি করে পোষ্যদের জন্য নতুন মালিক খুঁজছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বেশিরভাগ আশ্রয় কেন্দ্র এখন ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
পশু কল্যাণ সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বাসিন্দারা দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে পোষ্যদের স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। কাগজের ঝক্কি আর বিমানে জায়গার অভাবের কারণে অনেকেই নিরুপায় হয়ে বা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তাদের পোষ্যদের ফেলে যাচ্ছেন।
দুবাইয়ের পশু চিকিৎসকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। বহু মালিক তাদের সুস্থ ও সবল পোষ্যদের মেরে ফেলার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে আসছেন। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার খরচ এবং ঝক্কি এড়াতেই তাঁরা এই অমানবিক পথ বেছে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে বাঁধা অবস্থায় ধুঁকছে পোষ্য কুকুর। কোথাও আবার খাঁচার ভেতরে বিড়াল বা কুকুরছানা ফেলে রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী কেন্দ্রের সামনে। এমনকি ওমান সীমান্তের মরুভূমি সংলগ্ন রাস্তায় বহু পোষ্যকে ফেলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, কারণ মালিকরা সড়কপথে দ্রুত অঞ্চল ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
পশু উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে পোষ্যদের রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনও সমাধান নয়। বাসিন্দারা চাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক বোর্ডিং সুবিধাগুলোতে সাময়িকভাবে পোষ্যদের রেখে যেতে পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এসব থেকে স্পষ্ট যে, যুদ্ধের আবহে সবচেয়ে অসহায় এই প্রাণীরাই।
