
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে রাজ্যপালের দপ্তরে। আজ, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন বাংলার নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে তাঁর বিমান কলকাতায় নামবে। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর আগামীকাল, বৃহস্পতিবারই রাজভবনে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল ডঃ সিভি আনন্দ বোস আচমকাই পদত্যাগ করেন। গত ৫ মার্চ তিনি দিল্লিতে গিয়ে নিজের ইস্তফা জমা দেন। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ সেই ইস্তফা গ্রহণ করার পরই ঘোষণা করা হয় যে আর এন রবি পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। তিনি কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, “বিজেপি ছাড়া ওঁদের কোনও কাজ নেই। বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। তামিলনাড়ুতে যা করেছেন করেছেন, কিন্তু বাংলা আলাদা।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আর এন রবি ১৯৭৬ সালের কেরল ক্যাডারের একজন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়াও ন্যাশনাল সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিষয়েও কেন্দ্র সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। পরে তিনি মেঘালয় ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এবার সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
এদিকে, নতুন রাজ্যপাল আসার আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেন। ধর্মতলায় এসআইআর বিরোধী ধর্না শেষ করে তিনি সরাসরি রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সঙ্গে আনন্দ বোসের সম্পর্ক ভালই ছিল। ভোটের আগে আচমকা তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আনন্দ বোসকে ভবিষ্যতে আবার বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান।
এখন নজর থাকবে নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে। বিশেষ করে ভোটের আবহে রাজ্যপাল ও নবান্নের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
