
বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বড় ধাক্কা খেলেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উধাও হয়ে যায় বলে বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিদেশি বাজারের দুর্বলতার জেরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে এই বড় পতন দেখা দিয়েছে। ফলে দিনের শুরুতেই বাজারে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
বাজার খোলার সময়ই প্রধান সূচকগুলিতে বড় ধস নামে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ৭৬,৩৬৯.৬৫ পয়েন্টে খোলে, যা আগের দিনের বন্ধের তুলনায় প্রায় ৪৯৪ পয়েন্ট কম। এরপর বিক্রির চাপ আরও বাড়তে থাকে। সকাল প্রায় ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স আরও ৯১৫.৭২ পয়েন্ট কমে ৭৫,৯৪৭.৯৯-এ নেমে আসে। এত কম সময়ে এত বড় পতন বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
একই ছবি দেখা যায় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি ৫০-এও। নিফটি ২৩,৬৭৪.৮৫ পয়েন্টে খোলে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৯২ পয়েন্ট কম। বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় সূচকটি আরও নেমে ২৩,৬০২ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ প্রায় ২৬৫ পয়েন্ট পতন ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই।
বাজারে এই ধসের প্রভাব পড়েছে প্রায় সব খাতেই। বড় বড় সংস্থার শেয়ারেও চাপ দেখা গিয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার প্রায় ০.৫১ শতাংশ কমে যায়। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ০.৬৫ শতাংশ এবং ভারতী এয়ারটেলের শেয়ার প্রায় ০.৫৮ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি আইটিসি, ইনফোসিস, টিসিএস এবং এশিয়ান পেইন্টসের মতো বড় সংস্থার শেয়ারেও বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা যায়।
সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে অটো, ধাতু এবং ব্যাঙ্কিং খাত। মারুতি, এসবিআই, কোটাক ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ১.৫ শতাংশ থেকে ১.৭৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে ইন্ডিগো এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর শেয়ারেও বড় পতন দেখা গিয়েছে।
তবে এই চাপের মধ্যেও কিছু আইটি সংস্থার শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বৃদ্ধিও দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বলতার প্রভাব সরাসরি ভারতীয় বাজারে পড়েছে। এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে। জাপানের নিক্কেই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। পাশাপাশি হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকও এক শতাংশের বেশি কমেছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের জেরে শেয়ার বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বাজার কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
