
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ কে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভোটের আগে ভবানীপুর আসনে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার অমিত শাহ এবং নিতিন নবীন বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদারদের সঙ্গে। সূত্রের দাবি, সভার মূল প্রশ্ন ছিল, “ভবানীপুরে কার নাম করা হবে?” যার উত্তরে শুভেন্দু দল চাইলে নিজে দাঁড়াতে রাজি আছেন বলে জানান।
এই মুহূর্তে দলের ভিতর অনেকেই মনে করছেন, যদি শুভেন্দুকে প্রার্থী করা হয়, তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হবেন। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য দলে নতুন সভাপতি হলেও প্রার্থী বাছাইয়ে তাঁর প্রভাব এখনও সীমিত। সুকান্ত মজুমদারও নিজের এলাকা ছাড়াও তেমন বড় ব্যাগেজ রাখেন না। তুলনামূলকভাবে শুভেন্দুর প্রভাব পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে দৃঢ়।
সূত্রের খবর, এবারের বিজেপি প্রার্থী তালিকা গত নির্বাচনের তুলনায় সম্পূর্ণ নতুন ও বিশুদ্ধ হবে। আসনগুলোকে তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে A, B, C। A ক্যাটেগরিতে শুধুমাত্র জয়ের সম্ভাবনা থাকা শক্তিশালী নেতা পাবেন টিকিট। C ক্যাটেগরিতে যেখানে জয়ের আশা কম, সেখানেও লড়াই চলবে, তবে নির্বাচনী গণনা ও দলের আগ্রহ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।
রাজ্য বিজেপি ঘনিষ্ঠদের মতে, শুভেন্দুর রাজনীতিক ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা তাকে প্রার্থীতার জন্য প্রধান প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবানীপুরে তাঁর প্রার্থী হওয়া হবে একটি মহাকাব্যিক লড়াই। এছাড়া ভোটের আগে দলের ভিতরে, জেলা ও ব্লক স্তরে সব প্রস্তুতি তৎপর।
এদিকে ভোট ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৬ মার্চ। মনোনয়ন শুরু হতে পারে ১৮ মার্চ থেকে, যা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার চাপ আরও বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরের প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মুহূর্ত আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভোটের আগে এই অপেক্ষার রাজনীতি দেখছে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্তে বিজেপির কৌশল ও শুভেন্দুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
