
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা তীব্র হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাশাসক ও পুলিশের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে বিশেষ সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একদম ভয় পাবেন না, আপনারা আপনার দায়িত্ব পালন করুন। কেউ কিছু করতে পারবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে সতর্ক করেন বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। তার অভিযোগ, ভোটকে সামনে রেখে বহিরাগত ঢুকানো শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেয়। মমতা জানান, “বাইরের লোক ঢুকতে দেবেন না। হোটেলে রেইড ও নাকা চেকিং শুরু করুন।” এই পদক্ষেপ প্রশাসনের মধ্যে ভীতি এবং নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার দিকে লক্ষ্য রাখে।
এছাড়া তিনি পদোন্নতি ও পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন, যারা কমিশনের বদল শোষণ সহ্য করবে, তাদের প্রোমোশন নিশ্চিত হবে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, আইসি ও ওসিদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “বদল হবে, তবে কেউ ভেঙে পড়বে না।”
রাজনৈতিক সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মমতা। ইভিএম কারচুপি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্দেশ দেন ভোটযন্ত্রের প্রতি কড়া নজর রাখতে। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে, তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনভাবেই ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি হতে দেওয়া যাবে না।
রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এই পদক্ষেপ ভোটের আগে ‘যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা নাকা চেকিং, হোটেল রেইডসহ সমস্ত তৎপরতা শুরু করেছেন।
এতে পরিষ্কার, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক মনোবল বৃদ্ধি এবং ভোটের নিরাপত্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ভোট ঘোষণার আগে রাজ্যে এই পদক্ষেপ সমালোচনার মধ্যেও জনমতের চোখে দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কড়া মনোভাব এবং বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রক্রিয়ার মাঝেও মমতার এই নির্দেশ ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
