
পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (আর এন রবি) বৃহস্পতিবার শপথ নিলেন। শপথগ্রহণের পরই তিনি তার প্রথম বার্তায় বাঙালি অস্মিতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রাখলেন। তিনি লেখেন, “মা দুর্গার কাছে জ্ঞান এবং শক্তি প্রার্থনা করি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার জন্য।”
রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর এন রবি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক প্রাচ্যের কথাও স্মরণ করলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঋষি অরবিন্দ, সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বাংলা সাহিত্যে ও জাতীয় চেতনায় বাংলার অবদান তুলে ধরলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলার মাটি প্রাচীন বৈদিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে গৌতম বুদ্ধের বাণী, ভক্তি আন্দোলন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস গড়ে উঠেছে। এই ভূমির আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিক্যকে সংরক্ষণ করাই তার দায়িত্বের মূল ভিত্তি হবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “বাংলাকে যারা ভালোবাসেন, বাংলাও তাদের ভালোবাসে।” এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিচয় সব সময় প্রাধান্য পাবে।
শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকেও তার প্রথম বার্তা স্পষ্ট করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে সে বার্তা পৌঁছেছে যে রাজ্যপাল দায়িত্ব নিতে ও জনগণের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নতুন দায়িত্ব নেওয়া আর এন রবির এই বার্তা রাজ্যবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বার্তা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিত উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্ব বহন করছে।
