
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব স্বাভাবিকভাবে দেশে পৌঁছাচ্ছে, বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে। সম্প্রতি সংসদে বক্তব্য রাখেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, যেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে গ্রামে এখন থেকে গ্যাস বুকিং করা যাবে ৪৫ দিনের মধ্যে, শহরে রাখা হয়েছে ২৫ দিনের ব্যবধান। আগের নিয়মে যে সময়সীমা ছিল, সেটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গ্যাসের দাম ইতিমধ্যেই সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বুকিং নিয়মে বদলের ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বুক করতে শুরু করেছে। মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এটি দেশের ইতিহাসে একেবারেই নতুন পরিস্থিতি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সরবরাহে কোনও বড় সমস্যা নেই।”
সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ রয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনের কোনো অভাব নেই, এবং CNG ও LNG সরবরাহও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
তবে গ্যাসের অভাবে ইতিমধ্যেই অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁতে রান্না বন্ধ হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল এবং মিড-ডে মিলের রান্নায়ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কিছু অংশে হাজার মানুষের লাইন দেখা গেছে গ্যাসের জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কের কারণে মানুষ প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গ্যাস বুক করছেন, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে।
পাশাপাশি, মন্ত্রকের নির্দেশে গ্রামে ৪৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না। শহরাঞ্চলে যদিও ২৫ দিনের ব্যবধান রাখা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অনেক হোটেল ব্যবসায়ী ও কেটারাররা ইতিমধ্যেই সঙ্কট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরবরাহ সঠিকভাবে চললে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে দেশের প্রান্তিক এলাকায় গ্যাসের ঘাটতি সাময়িকভাবে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। সরকার ইতিমধ্যেই সতর্কতা নিয়েছে যাতে গ্রাম ও শহরের মানুষ উভয়ই প্রয়োজনীয় সরবরাহ পান।
গ্যাস বুকিং নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে: গ্রামে ৪৫ দিন, শহরে ২৫ দিনের মধ্যে বুকিং করা যাবে, এবং বাজারে আতঙ্কজনিত ক্রয় বৃদ্ধির ফলে হোটেল ও সাধারণ মানুষরা সমস্যায় পড়েছেন। মন্ত্রকের আশ্বাস অনুযায়ী সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
