
বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগেই বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে মুন্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ এই পাঁচটি জনজাতির জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন পর্ষদগুলির প্রধান লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলির ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
ঘোষণার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এই সম্প্রদায়গুলির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “বাংলার প্রাণবন্ত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই প্রতিটি সম্প্রদায়। তাঁদের জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনগ্রসর ও জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আসছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন গঠিত এই বোর্ডগুলি শুধু সংস্কৃতি রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার দিকেও জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই সম্প্রদায়গুলির প্রথাগত অধিকার সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৩ সাল থেকে রাজ্য সরকার বিভিন্ন জনজাতি ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে আসছে। নতুন এই পাঁচটি বোর্ড সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিভিন্ন প্রান্তিক সম্প্রদায়ের উন্নয়নের কথা সামনে এনে সরকার মূলত তৃণমূল স্তরে সমর্থন আরও শক্ত করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভোটের আগে এই নতুন ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।
