
বকেয়া ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) নিয়ে আন্দোলনের জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর। বিশেষ করে খাদ্যভবনের সামনে বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারী কর্মচারীদের সঙ্গে অন্য পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক Bhaskar Ghosh। তাঁর দাবি, সরকারি কর্মচারীদের ছদ্মবেশে আইপ্যাকের লোকজন আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ডিএ বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনগুলি। সম্প্রতি Supreme Court of India নির্দেশ দেয় যে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। তবে রাজ্য সরকার আদালতের কাছে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে। সেই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকেই একাধিক কর্মচারী সংগঠন যৌথভাবে ধর্মঘটের ডাক দেয়। আর শুক্রবার সেই ধর্মঘটকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে উত্তেজনার ছবি সামনে আসে।
খাদ্যভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ দেখাতে গেলে তাঁদের দফতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে অনেক বিক্ষোভকারী মাটিতে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। স্লোগান ওঠে ‘চোর চোর’ বলেও। অন্যদিকে আবার শাসকদল সমর্থিত কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয়। একদিক থেকে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি উঠতেই অন্যদিক থেকে পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার মধ্যেই আইপ্যাক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন ভাস্কর ঘোষ। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সরকারি দফতরে আইপ্যাকের কর্মীদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিডিও অফিস থেকে শুরু করে নানা প্রশাসনিক জায়গায় তাঁদের রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এরা আসলে আইপ্যাকের লোক। সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশে থেকে আন্দোলনকারীদের বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে এরা কাটমানির ভাগীদার।”
অন্যদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে কিন্তু ধর্মঘটের তেমন প্রভাব পড়েনি বলেই জানা গিয়েছে। প্রতিদিনের মতোই সেখানে সরকারি কাজকর্ম চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। যদিও রাজ্যের অন্যান্য অনেক সরকারি দফতরে কর্মচারীদের উপস্থিতি কম ছিল এবং আন্দোলনের প্রভাব দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ডিএ আন্দোলন, ধর্মঘট এবং আইপ্যাক নিয়ে নতুন অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবেশে তৈরি হয়েছে চরম টানাপোড়েন। এখন দেখার, এই আন্দোলন এবং পাল্টা অভিযোগের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
