
রাবণ-কুম্ভকর্ণ সমাচার
‘হঠাৎ যদি ঘুম ভাঙায় কেউ, স্বপ্ন শেষের আগে… মুখখানা তুই এমনি করবি, যেন প্যাঁচা লাগে! নালিশ শেষে ঐ শালাকে দিবি আমায় তুলে, ঘুম ভাঙানোর অপরাধে চড়াবো তাকে শূলে’
(প্রাণের ভাই কুম্ভকর্ণকে নাকি এমনি বলেছিল দাদা রাবণ)
কথায় বলে, রাবণের রাগ। কিন্তু ভাইরে, ভাইকে তিনি প্রবল ভালবাসতেন। কুচুমুচু করে আদরে ভরিয়ে রাখতেন গাবদা পেটের ব্যাটা কুম্ভকর্ণকে। আর সেই কালো কুচকুচে কুম্ভকর্ণও দাদাকে পেল্লায় ভক্তিচ্ছেদ্দা করত। কথায় কথায় নাকি কাঁদত। চোখের জলের সঙ্গে নাকের জল মিশে নাকি আস্ত এক সমুদ্র তৈরি হয়ে গিয়েছিল! কারা যে এসব ফুক্কুরি কাটে কে জানে!
দেবতাকুলের প্যাঁচ ও বরদান
আজকালকার ওই ‘জুকের’ না ‘জোকার’ কী যেন একটা লোক বানিয়েছে না? ফ্রেরেসবুক না কী! সেখানেই সব পাজি হতচ্ছাড়ারা কুম্ভকর্ণের ঘুম নিয়ে আঁতলামো শুরু করেছে। কুম্ভকর্ণ কোন সুন্দরীর স্বপ্ন দেখে ফ্লাইং কিস দিচ্ছিল কে জানে, দেবতাকুলের মাতব্বর ইন্দ্রের তো তা দেখে জ্বলেপুড়ে একসা! ইন্দ্রের টিংটিঙে শরীর, আর কুম্ভকর্ণের পাঞ্জা— ব্যস, প্যাঁচ কষা স্টার্ট। বিদ্যের দেবী সরস্বতী কুম্ভকর্ণের জিভে এমন মোক্ষম ঠোকা ঠুকলেন যে আলটাকরা, দাঁত সব আটকে একসা! ‘ই’ বলতে গিয়ে ‘নি’ হয়ে গেল। ব্রহ্মা ভাবলেন বর বুঝি ‘নিদ্রাসন’! ব্যাস, বীরপুঙ্গব জীবনভর কাটিয়ে দিলেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। ভাবা যায়? রাবণের পরাজয়ের অন্যতম কারণ নাকি ছিল ওই দুদ্দাড় ঘুম!
একালের ঘুম দিবস ও আদিখ্যেতা
এখন তো আবার ব্যাখ্যা-বুলি ঝাড়লে তাকে বলে ‘সাউন্ড স্লিপ’। এই ব্যাপারটাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ১৩ মার্চ পালিত হয় ‘বিশ্ব ঘুম দিবস’। কী আদখেলেপনা রে বাবা! হাগ দে, জাপটে দে, কিস দে— এসবের পর এখন এসেছে ‘ঘুম দে’। মানে এই দিনটা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোও আর বাকি ৩৬৪ দিন জেগে শত্তুরের শাপশাপান্ত করো!
ক্লাসরুম থেকে সংসদ: নাকের ডাক
তবে ঘুম যে শুধু বীররাই দেয়, তা তো নয়। ইশকুলেই শুনেছি পণ্ডিতমশাইয়ের নাসিকা গর্জন। আমাদের বৃন্দাবন স্যর ক্লাসেই ঘুমিয়ে পড়তেন। দুটো তেলমাখানো বেত টেবিলের ওপর পাহারায় থাকত আমাদের জন্য। এ দেশের শিক্ষকরা তো গরিব কর্মচারী, লবণ আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই একটু আধটু ঝিমিয়ে পড়া মানা যায়। কিন্তু দেশের জনপ্রতিনিধিরা যখন সংসদের কক্ষদ্বয়ে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সশব্দ নাসিকা গর্জনে নিজেদের উপস্থিতির প্রমাণ দেন, তখন একটু নড়ে বসতে হয় বইকি!
জাগরণী বার্তা
আমরা নড়ে বসি। আমাদের দৌড় তো ওইটুকুই। ভাবি বেচারা মাঝিমাল্লারা জনগণের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমের সময় পান না, তাই জনসমক্ষে ঝিমিয়ে পড়েন। হে বীরপুঙ্গব, একালের কুম্ভকর্ণসকল, এবার একটু তাকান! শুধু বাক্সপ্যাঁটরা ভর্তি ভোট পেলেই তো হবে না। বিধায়ক-সাংসদ হলেই তো হবে না। আমি কৃষক, আমি কুলি, আমি মুচি— আমাদের নিশ্চিত ঘুমের দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। দরকারে আপনাদের ঘুম কমান! অনেক হয়েছে ঘুম, এবার জাগুন। না হলে, ভোটে ‘লে ছক্কা’!
বি. দ্র: কুম্ভকর্ণ সংক্রান্ত অংশ নেহাতই কল্পনা-বিলাস। হাস্যরসের জন্য বানানে কিছু রদবদল ইচ্ছাকৃত।
