
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই স্পষ্ট হয়ে যাবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা। মঙ্গলবার বিকেল সওয়া ৩টেয় কালীঘাটের বাসভবন থেকে তালিকা ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘোষণার আগেই জল্পনা, উত্তেজনা আর চমকের সম্ভাবনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ঘিরে রয়েছে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামকে। শুভেন্দু অধিকারী-কে ভবানীপুরে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ফলে পাল্টা কৌশল হিসেবে নন্দীগ্রামে কাকে নামানো হবে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই কেন্দ্রেই হতে পারে হাইভোল্টেজ লড়াই।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের প্রার্থী তালিকা তৈরি করা মোটেই সহজ ছিল না। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের ফলে একদিকে যেমন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে, তেমনই বহু বিধায়ক ও নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে প্রবল বিরোধিতাও রয়েছে। সেই কারণে সমীক্ষা ও রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা যাচ্ছে, হুগলি জেলায় বড়সড় বদল আসতে পারে। ১৮টি আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। পুরশুরা, খানাকুল, আরামবাগ, গোঘাটের মতো আগেরবার হারানো আসনগুলিতে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, উত্তরপাড়া-সহ একাধিক কেন্দ্রে বদলের ইঙ্গিত মিলছে।
চমকের তালিকায় রয়েছেন তারকারাও। সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী-কে উত্তরপাড়া থেকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হননি বলে খবর। অন্যদিকে, অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী-র আসন বদলের সম্ভাবনাও জোরালো, চণ্ডিপুর ছেড়ে তাঁকে নদিয়ার করিমপুরে পাঠানো হতে পারে।
এছাড়া প্রবীণদের জায়গা ধরে রাখা না নতুনদের সুযোগ দেওয়া, এই দোলাচলেও ছিল দল। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্মল ঘোষ, মদন মিত্রদের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একইসঙ্গে উত্তর কলকাতায় বড়সড় অদলবদল হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।
টলিপাড়াতেও নজর সবার। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-কে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা। যদিও কোন কেন্দ্র থেকে তাঁকে নামানো হবে, তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন চলেছে বলেই খবর। ফলে বিকেলের ঘোষণায় একাধিক বড় চমক অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কাদের উপর ভরসা রাখছে তৃণমূল, আর কোথায় বদল আনছে, তা জানতে তাকিয়ে গোটা বাংলা।
