
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল খুশির উৎসব ইদের উপর। Eid al-Fitr-এর আনন্দে এবার ভাটা পড়েছে বহু প্রবাসী ভারতীয়র জীবনে। প্রতি বছর এই সময়টায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব কাটাতে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্বপ্ন অনেকের কাছেই অধরা হয়ে উঠেছে।মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এই সমস্যার মুখে পড়েছেন। Iran, Israel এবং United States-কে ঘিরে উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে আকাশপথে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।
এই পরিস্থিতিতে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই শেষ মুহূর্তে টিকিট ক্যানসেল হয়ে যাওয়ার কারণে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। যেসব ফ্লাইট এখনও চালু রয়েছে, সেগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও এই ভাড়া ১০ থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ।প্রতি বছর সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ভারতীয়রা ইদের সময় ৫ থেকে ৭ দিনের ছুটি পেয়ে থাকেন। সেই সুযোগেই তারা দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু এবছর যুদ্ধের আবহে সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদেশেই ইদ কাটানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
শুধু যাতায়াতই নয়, সামগ্রিকভাবে প্রবাসীদের মানসিক অবস্থাতেও পড়েছে এর প্রভাব। উৎসবের আনন্দের জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা। পরিবার থেকে দূরে থেকে ইদ কাটানোর যন্ত্রণা অনেকের কাছেই এবার বাস্তব হয়ে উঠছে।একদিকে সীমিত আসনসংখ্যা, অন্যদিকে লাগামছাড়া বিমানভাড়া এই দ্বিমুখী চাপে পড়ে বহু মানুষের ঘরে ফেরা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ইদের খুশির আমেজ অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা আরও কিছুদিন চলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
