
ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল নয়াদিল্লি। সোমবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৮.৩ লক্ষ কোটি টাকা) নিয়ে যেতে দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন এজেন্ডার অভিমুখে’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার সময় বিদেশমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোই নয়, বরং তা হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমানে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ট্যারিফ-বহির্ভূত বাধা এবং আইনি জটিলতা রয়েছে, তা দূর করতে দুই দেশই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এক বিশেষ এবং বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে।”
জয়শঙ্কর তাঁর ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গত বছরের (ডিসেম্বর ২০২৫) ভারত সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেই সফর পেশাদারদের যাতায়াত, খাদ্য নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথ প্রশস্ত করেছে।
পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে রাশিয়া ভারতের প্রধান সহযোগী, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ কুদানকুলাম পারমাণবিক প্রকল্প।২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। এই লক্ষ্যে রাশিয়া ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।
চলতি বছর ভারত BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে। এই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থায় ব্রিকস (BRICS), এসসিও (SCO) এবং জি-২০ (G20)-র মতো মঞ্চগুলোতে ভারত ও রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করবে। ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস ‘মানবতা প্রথম’ এবং ‘জনগণের উন্নয়নকেন্দ্রিক’ নীতি নিয়ে এগোবে।
যোগব্যায়াম, আয়ুর্বেদ এবং শিল্পের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে, তাও স্মরণ করেন বিদেশমন্ত্রী। কাজান এবং ইয়েকাতেরিনবার্গে ভারতের নতুন কনস্যুলেট অফিস খোলার ফলে এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
