
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের বড় স্বপ্নে আবারও ধাক্কা। বহু প্রতীক্ষিত ‘উর্জা গঙ্গা’ প্রকল্পের অধীনে হলদিয়ার দিকে গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজ কার্যত থমকে গেছে। মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি-জট। রাজ্যের হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইল (GAIL) এই প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে রাজ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস (PNG) ও গাড়ির জ্বালানি (CNG) সরবরাহ বাড়ত, যা রাজ্যের জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও কমাতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেমন গঙ্গা ও রূপনারায়ণ নদীর তলা দিয়ে পাইপ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে রূপনারায়ণের নীচ দিয়ে প্রায় ২.৭ কিলোমিটার পাইপলাইন ২০২৪ সালের মধ্যে বসানো হয়।
তবে সমস্যার শুরু সেখানেই থামেনি। হলদিয়া পর্যন্ত বাকি ১৬২ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের কাজ জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে। গেইল-এর নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেছে, আর সর্বশেষ লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। শুধুমাত্র বড় পাইপলাইন নয়, ছোট পাইপলাইন বসানোর কাজও একাধিক পুরসভা এলাকায় বাধার মুখে পড়ছে। কোথাও জমি নিয়ে বিরোধ, কোথাও আবার প্রশাসনিক জটিলতা কাজকে ধীর করে দিচ্ছে।
প্রকল্পটির আওতায় মোট সাতটি গ্যাস বণ্টন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় CNG ও PNG সরবরাহ করা হবে। কিন্তু কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও এখনও পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করা যায়নি।
এই প্রকল্প সফল হলে রাজ্যে জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরি হত এবং শিল্পের জন্য গ্যাস সরবরাহ সহজ হত। পাশাপাশি গৃহস্থালির জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে এলপিজির উপর নির্ভরতা কমত। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, জমি জটের কারণে এই বড় স্বপ্ন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্য দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখালেও বাস্তবায়নে একাধিক বাধা বারবার সামনে এসেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত বড় পরিকাঠামো প্রকল্প কি আদৌ সময়মতো শেষ হবে, নাকি আবারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে ‘উর্জা গঙ্গা’?
