
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। শুধু জেলাশাসক নয়, এবার সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের উপরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) সবার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশিকা।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিচারাধীন মামলা এবং বিশেষ করে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট দ্রুত কার্যকর করতে হবে। কোনো ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি পেন্ডিং রাখা যাবে না। পাশাপাশি পলাতক অপরাধী ও ঘোষিত দাগি আসামিদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি করতেও বলা হয়েছে, যাতে নির্বাচনকালে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়।
এছাড়াও প্রতিটি থানার ওসি-দের নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য গোলমাল সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে বা যারা ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে তাদের উপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ রয়েছে। এতে করে আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে চাইছে কমিশন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃজেলা সীমান্তে নাকা চেকিং ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি অবৈধ মদ, অস্ত্র এবং মাদক পাচার রুখতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে অপরাধমূলক চক্র যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হোটেল, লজ, ধর্মশালা সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের সময় সমস্ত পুলিশ আধিকারিক কমিশনের অধীনেই কাজ করবেন।
কর্তব্যে কোনো গাফিলতি বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কড়া ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
