
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ফোনে কথা বললেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী Mohammed bin Salman-এর সঙ্গে। চলমান সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মোদী জানান, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অশান্তি নিয়ে তাঁদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি এবং সেই হামলার তীব্র নিন্দাও জানান। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জাহাজ চলাচল যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন দুই নেতা।
আলোচনায় উঠে আসে সমুদ্রপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও। দুই রাষ্ট্রনেতাই একমত হন যে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে শিপিং লেনগুলো খোলা এবং নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের উপর।
একইসঙ্গে সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুবরাজকে ধন্যবাদ জানান মোদী। এই বার্তা থেকে স্পষ্ট, শুধু কূটনৈতিক নয়, মানবিক দিক থেকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত সরকার।
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে Iran এবং Israel-সহ একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান, যার জেরে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু ইরানেই প্রায় ১,৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এমনকি এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও, যা ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই তার প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উপর।
এই ফোনালাপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ভারত শুধু দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়, বরং সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
