
ভোটের আবহে উত্তপ্ত কলকাতার রাজনীতি, আর সেই উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এল এক বিতর্কিত ছবি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী Javed Khan-এর নির্বাচনী প্রচারে হঠাৎই দেখা গেল এক ‘কুখ্যাত’ দুষ্কৃতীকে। ঘটনাটি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর।
শনিবার কসবায় ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি-বাড়ি প্রচারে বেরিয়েছিলেন জাভেদ খান। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ভোটের আবেদন সবই চলছিল নিয়ম মেনেই। কিন্তু সেই প্রচারের প্রথম সারিতেই দেখা যায় বাবুসোনা নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে, যার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সাদা গেঞ্জি পরে তিনি নিজেই ভোট চেয়ে প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছিলেন।
জানা গিয়েছে, এই বাবুসোনা নাকি কুখ্যাত অপরাধী সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অতীতে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হওয়া এবং জেল খাটার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে Kankulia double murder case-এর পর থেকেই তার নাম আরও বেশি করে সামনে আসে। যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—একজন অভিযুক্ত দুষ্কৃতী কীভাবে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম সারিতে জায়গা পায়? এর ফলে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি বিরোধীদের।
অন্যদিকে, এই বিতর্কে সাফাই দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কোনও পাড়ায় প্রচারে গেলে সেখানে বসবাসকারী কাউকে আলাদা করে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “যেখানে প্রচার হয়েছে, সেটাই ওর পাড়া। সে যদি সেখানে উপস্থিত থাকে, তাকে সরিয়ে দেওয়া কি বাস্তবসম্মত? তাহলে তো প্রায় সব জায়গাতেই একই সমস্যা হবে।”
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাদের দাবি, একজন বিতর্কিত অতীত থাকা ব্যক্তির এমন সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
ভোটের আগে এমন ঘটনায় কসবার রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।
