
হুগলির চুঁচুড়ায় আবারও প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ যেন থামছেই না। কিছুদিন নীরব থাকার পর ফের প্রকাশ্যে দলেরই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন তিনি। সরাসরি দাবি করলেন, এবারের প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য যদি হেরে যান, তার দায় রচনারই।
এক সাংবাদিক বৈঠকে অসিত বলেন, “রচনা চায় না দেবাংশু জিতুক। সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা ওঁর নেই।” তাঁর অভিযোগ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সকলকে নিয়ে চলার কথা বললেও, রচনা তা মানছেন না। বরং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছেন।
এতেই থেমে থাকেননি অসিত। তাঁর আরও অভিযোগ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। সেই কারণেই তিনি টিকিট পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি এখনও বিধায়ক, অথচ মিছিলে আমার নাম নেই। রচনা দেবাংশুকে নিয়ে মিছিল করবে আর নির্দেশ দেবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
ক্ষোভের সুর আরও তীব্র করে তিনি বলেন, “৭৪ জন বিধায়ক যারা টিকিট পাননি, তাঁদের অপমান করা হয়েছে। রচনা নতুন, তিন দিনের যোগী হয়ে দল শেখাতে আসছে!” একই সঙ্গে তিনি দলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকরভাবে, রচনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অসিত। বলেন, “দম থাকলে চুঁচুড়ায় নির্দল হিসেবে দাঁড়ান, আমিও দাঁড়াব। যদি ওর থেকে বেশি ভোট না পাই, তাহলে মাথা ন্যাড়া করে হুগলি ঘুরব।”
অন্যদিকে, এই বিতর্কের জবাবে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রার্থী নির্বাচন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বই ঠিক করে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ভিত্তিতেই পুরনো প্রার্থীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় কাজ করে আইপ্যাকও।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ভোটের মুখে এই ধরনের মন্তব্য দলীয় ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, এই বিরোধ কতদূর গড়ায় এবং তার প্রভাব ভোটের ফলাফলে পড়ে কি না।
