
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) উসকানিমূলক বক্তব্যে বাংলাদেশের দুই জেলা যশোর ও খুলনা কে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। রবিবার এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শমীকের মন্তব্য “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক” এবং আন্তর্জাতিক নীতি ও প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কুঠারাঘাত করেছে।
জামায়াতে ইসলামী মন্তব্য করেছে, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজনীতিকদের এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ এতে আতঙ্ক ও অস্থিরতার শিকার হচ্ছে। দলটি আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কোনও দ্বিধা করবে না।
শমীক ভট্টাচার্য গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি চালিয়ে রাজ্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ধর্মীয় বিভাজন ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জনবিন্যাস পরিবর্তন সমাধান হবে।
তদন্ত ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শমীকের মন্তব্য শুধুমাত্র নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার মতো সংবেদনশীল বিষয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি অনুসারে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এই ধরনের উগ্র মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমরা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা জোরদারের জন্য দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছি। ভারতীয় নেতাদের উচিত এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। শমীকের মন্তব্য ও বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ার পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নজর কেড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহলে।
