
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া চাপের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতে। রান্নার গ্যাস বা LPG-এর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবার পেট্রোল পাম্প থেকেই কেরোসিন পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, যা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রবিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, আপাতত ৬০ দিনের জন্য এই বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রান্না ও জ্বালানির বিকল্প হিসেবে কেরোসিন সরবরাহ করা হবে। এতদিন মূলত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS)-এর মাধ্যমে সীমিতভাবে কেরোসিন পাওয়া যেত, তবে এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি রিটেল চ্যানেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে এই জ্বালানি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় সর্বাধিক দু’টি পেট্রোল পাম্পে কেরোসিন মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতি পাম্পে সর্বোচ্চ ২৫০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন সংরক্ষণ করা যাবে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর কেরোসিন বিক্রির জন্য আলাদা করে কোনও লাইসেন্স (Form 18) নিতে হবে না ডিলার বা এজেন্টদের। এমনকি কেরোসিন পরিবহণের ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়মে শিথিলতা আনা হয়েছে, যাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
কেন্দ্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই কেরোসিন শুধুমাত্র গৃহস্থালির রান্না ও আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। অপব্যবহার রুখতে তদারকির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে কঠোরভাবে নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
LPG সরবরাহে ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি এবং শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে আরও সুসংহত নীতি প্রয়োজন বলেও মত তাঁদের।
পেট্রোল পাম্পে কেরোসিন বিক্রির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।
