
বুধবার বীরভূমের নানুরে জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘সমব্যথী’-র সূচনার নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় উঠে এল ২০০০ সালের সুচপুর গণহত্যার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা, যা তাঁকে এই মানবিক প্রকল্প গড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্মরণ করেন ২০০০ সালের সেই দিনটির কথা, যখন নানুরের সুচপুরে ১১ জন দরিদ্র খেতমজুরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সেই সময় তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দিল্লিতে ছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সমস্ত কাজ ফেলে তিনি বাংলায় ছুটে আসেন এবং পৌঁছন বীরভূমের সেই গ্রামে।
নানুরে পৌঁছে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিহতদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে মৃতদেহগুলি ঢাকার মতো সামান্য এক টুকরো সাদা কাপড় কেনার সামর্থ্যও তাঁদের ছিল না। সেই চরম দারিদ্র্য ও অসহায়তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি অনুভব করেছিলেন, অভাবের কারণে যেন কোনও মানুষের শেষকৃত্য বা মর্যাদাপূর্ণ বিদায় থমকে না যায়।
সেই মুহূর্তের সংকল্পই পরবর্তীকালে ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের রূপ নেয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের দরিদ্র মানুষ যেন অর্থের অভাবে পরিজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সমস্যায় না পড়েন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের মর্যাদার সঙ্গে শেষকৃত্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সুচপুরের সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাই ছিল এই প্রকল্পের মূল প্রেরণা।
এদিনের সভায় জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আবারও মনে করিয়ে দেন যে, মানবিকতার খাতিরেই তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা বজায় রাখবে।
