
মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বুধবার ভয়াবহ আকার নেয়। জেলার একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয় দুপুর থেকেই, যা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অভিযোগ, এই উত্তেজনার মাঝেই সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের আটকে রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি দ্রুত উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়। এরপর রাতের দিকে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি সমস্যা। অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়ের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। রাস্তার উপর বাঁশ ফেলে গাড়ির গতি থামানোর চেষ্টা হয় এবং ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে জানা গেছে। এতে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং গাড়ির ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে কাচের টুকরো।
এই ঘটনার একটি দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের তরফে পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, প্রায় বাইশ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। সেই প্রতিবাদই ধীরে ধীরে বিক্ষোভে পরিণত হয় এবং শেষে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ছিল। সেখানে বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন জানাতে পারতেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। জানা গেছে, একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের খবর।
একদিকে বিরোধী শিবির অভিযোগ করেছে যে এই ঘটনা পরিকল্পিত এবং এতে শাসক দলের প্ররোচনা রয়েছে। অন্যদিকে শাসক পক্ষ বলেছে, এমন পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষই দায়ী, কারণ তাদের সিদ্ধান্তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
মালদহের পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট সংবেদনশীল। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
