
মালদহে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের প্রধানের কাছে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে মালদহের একাধিক এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করে আন্দোলনে সামিল হন স্থানীয় মানুষ। এর জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লক অফিসে। সেখানে বিশেষ সংশোধন কাজের দায়িত্বে থাকা সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ভিতরে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্লক অফিস ঘিরে ফেলেন এবং ওই আধিকারিকদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ঘেরাও গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং রাতের দিকে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়ের উপর হামলার চেষ্টা হয়। ইট-পাথর ছোড়া এবং রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। একটি গাড়ির ভিতরে ভাঙা কাচ পড়ে থাকার দৃশ্যও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ উদ্ধার অভিযানের সময় লাঠিচার্জ করে। এমনকি কনভয়ের একটি গাড়ি এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে বলেও দাবি করা হয়েছে। আহত ওই ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই তাঁরা পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন।
পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং জেলায় টহল জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও নজরদারি চালাচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে মালদহের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।
