
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার সাধারণ মানুষের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। চিঠিতে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধ চালিয়ে মার্কিন প্রশাসন আদৌ আমেরিকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করছে কি না।
পেজ়েশকিয়ানের দাবি, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে উভয় পক্ষেরই। অথচ এই যুদ্ধের মাধ্যমে মার্কিন জনতার কী লাভ হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বললেও বাস্তবে সেই নীতি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্প পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। এই ধরনের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর সঙ্গে তুলনা করে পেজ়েশকিয়ান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহী এবং তাদের পক্ষে দীর্ঘদিন এই সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে তেহরান সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
চিঠিতে পেজ়েশকিয়ান আরও স্পষ্ট করে জানান, ইরান কখনও এই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং আগ্রাসনের জবাব দিতেই তারা বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের সঙ্গে ইরানের কোনও শত্রুতা নেই।
এই খোলা চিঠিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে এই বার্তা পাঠিয়ে ইরান জনমত প্রভাবিত করার কৌশল নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
