
সানরাইজার্স হায়দরাবাদে অন্তর্বর্তী অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক শর্মাকে (Abhishek Sharma) না বেছে ঈশান কিষাণকে (Ishan Kishan) অধিনায়ক করা নিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় তারকা যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh) খোলামেলা মন্তব্য করলেন। যুবরাজের মতে, অভিষেক দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, রাজ্য দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছে। তবু নেতৃত্বের সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা স্বাভাবিক।
যুবরাজ পডকাস্ট ‘স্পোর্টস তক’-এ বলেন, “কেউ যদি সাত বছর ধরে দলের জন্য সব দেয়, রাজ্য দলের অধিনায়কত্ব করে, বিশ্বকাপে রান হাঁকায় তারপর নেতৃত্ব না পেলে খেলোয়াড়ের মনে কী প্রভাব পড়ে, সেটা ভাবার বিষয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অনুভূতি তিনি নিজেও ২০০৭ সালে দেখেছেন। 당시 ভারতীয় দলে সিনিয়র ক্রিকেটার হরভজন সিং এবং বীরেন্দ্র সেহওয়াগ সহ ছিলেন, এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন যুবরাজ নিজেই। হঠাৎ করে মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) অধিনায়ক হয়ে যান। যুবরাজ স্বীকার করেন, “সেই সময় মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু পরে বোঝা গেল, সিদ্ধান্ত দূরদর্শী এবং সঠিক ছিল।”
যুবরাজ অভিষেককে উৎসাহ দিয়ে বলেন, “যা হয়েছে, তার জন্য কষ্ট পেয়েছ। কিন্তু এখন সেটা সরিয়ে রাখো। অধিনায়ককে সমর্থন করো। যন্ত্রণাকে অনুপ্রেরণায় বদলে নাও।” তিনি আরও খানিক খোঁচা দিয়ে যোগ করেন, “সানরাইজার্সের বোলিং দুর্বল, তাই যদি হায়দরাবাদ জিততে পারে, তবে সকল কিছুর প্রমাণ মিলবে।”
ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই অবাক, কারণ অভিষেকই দীর্ঘ সময় ধরে দলের সঙ্গে ছিলেন এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে ঈশান কিষাণকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য কারণ আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।
জীবন ও ক্রীড়াজগতের এই অভিজ্ঞতা যুবরাজের জন্যও শিক্ষণীয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কখনো কখনো আচমকা সিদ্ধান্ত এবং অবাধ্য পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মনোবল এবং প্রতিভার প্রকৃত মূল্য বুঝতে সহায়ক হয়। যুবরাজের এই খোলামেলা মন্তব্য প্রমাণ করে, অভিষেকের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য ধৈর্য্য, পরিশ্রম এবং সহনশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া যুবরাজের ২০০৭ সালের স্মৃতি শেয়ার করা পরিস্থিতি আরও প্রমাণ করছে, যে কখনো কখনো খেলোয়াড়ের হতাশা সাময়িক হলেও তা পরবর্তী সময়ে তার কেরিয়ার ও দলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
