
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই রাজ্যে ফের বড়সড় অভিযান চালাল Enforcement Directorate। শুক্রবার ভোরে কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত ঘিরে এই অভিযানে রাজ্যজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে ইডি আধিকারিকরা বিভিন্ন স্থানে রওনা দেন। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, বনগাঁ, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চলে। একাধিক ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়ে নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এক ব্যবসায়ী বসন্ত কুমার শরাফের নাম তদন্তে উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁর বাড়িতে বিশেষভাবে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল রেশনের সামগ্রী কীভাবে পাচার করা হত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং কোনও প্রভাবশালী যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা।
এই রেশন দুর্নীতি মামলাটি আগেই রাজ্যে বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। ২০২৩ সালে এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পরে দীর্ঘ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেই দাবি ইডির।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোটের মুখে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের আগে শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের ঘিরেই এই ধরনের তল্লাশি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণভাবে তদন্তের অংশ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য তদন্ত ও তলবের ঘটনাও মিলিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের দুই মন্ত্রী Sujit Bose এবং Rathin Ghosh-কে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই ফের ইডির এই বড় অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে ইডির এই একযোগে তল্লাশি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হয়, সে দিকেই এখন নজর সকলের।
