
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলায় আবারও Supreme Court of India-এর দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বকেয়া ২৫ শতাংশ DA পরিশোধের জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক এই মর্মে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী DA পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।
রাজ্য সরকারের যুক্তি, বকেয়া পরিশোধের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়, কারণ এতে প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। সরকারের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে পরিশোধ করাই বাস্তবসম্মত সমাধান।
সরকার আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা DA বণ্টনের পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। ওই কমিটি ইতিমধ্যেই দুটি বৈঠক করেছে এবং একটি প্রাথমিক রিপোর্টও আদালতে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আর্থিক প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্য সরকার ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করছে। ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IFMS) এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (HRMS)-এর মাধ্যমে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের তথ্য ইতিমধ্যেই কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে। তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের পুরোনো ডেটা ডিজিটাইজেশনে এখনও কাজ চলছে।
রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গ্রুপ ডি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বকেয়া সরাসরি পরিশোধ করা হচ্ছে। অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কিছু অংশ ভবিষ্যৎ তহবিল (GPF/DPF)-এ জমা করা হতে পারে।
সময় বাড়ানোর আবেদনের পেছনে কয়েকটি কারণও উল্লেখ করেছে রাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক চাপ, বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ, প্রশাসনিক কাজের জটিলতা এবং পুরোনো নথি ডিজিটাইজেশনের বিলম্ব।
তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি Supreme Court of India। আগামী ১৫ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এর আগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও উঠেছিল এবং একটি রিভিউ পিটিশনও দাখিল করা হয়েছিল। ফলে এই মামলা নিয়ে রাজ্য ও কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত।
DA মামলায় সময়সীমা বাড়ানোর এই আবেদন রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার নতুন দিক সামনে এনেছে, যা আগামী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
