
শেয়ার বাজারে সপ্তাহের শেষে দারুণ ইতিবাচক শুরু লক্ষ্য করা গেল। বৈশ্বিক বাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতের জেরে ভারতের শেয়ার বাজারে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে।
প্রথম দফার লেনদেনে সেনসেক্স ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে যায় এবং পরে তা ৭০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে নিফটি সূচকও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী গতিতে ২৩,৯৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াল স্ট্রিটের রাতভর শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট দেখা যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।
ব্যাংকিং সেক্টরে সবচেয়ে বেশি উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক একাই প্রায় ১০০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত সবকটি শেয়ারই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল, যা বাজারের সামগ্রিক গতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট এবং পিএসইউ সেক্টরেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে কিছু বড় কোম্পানির শেয়ার যেমন গোদরেজ প্রপার্টিজের বুকিং বৃদ্ধির ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। রেলওয়ে খাতের শেয়ারও ভালো পারফর্ম করেছে, যার মধ্যে রেলটেল কর্পোরেশনের শেয়ারে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা যায়।
তবে আইটি খাতে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা গেছে। টিসিএস-এর ফলাফল ঘোষণার পর কিছু আইটি স্টক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বড় ও মিডক্যাপ কিছু শেয়ারে সামান্য বিক্রির চাপও দেখা গেছে।
এছাড়া কিছু বীমা ও অটোমোবাইল সংস্থার শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থান যদি অব্যাহত থাকে তবে স্বল্পমেয়াদে নিফটি নতুন রেকর্ড স্তর ছুঁতে পারে।
বাজারে এখন ইতিবাচক মনোভাব ফিরে এসেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
