
ওয়াশিংটন: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হলেও, বাস্তবে সেই সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরানের ইচ্ছে থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, ইরান এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে। এমনকি দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং টোল বসানোর পরিকল্পনাও করেছে বলে জানা গেছে।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ লেখেন, “ইরান হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় খুবই খারাপ কাজ করছে। এই আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির পরও খুব কম সংখ্যক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
এর আগে ট্রাম্প কিছুটা নরম সুরে বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব আলোচনায় যুক্তিবাদী এবং তিনি শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদী। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে তাঁর অবস্থান যে আরও কঠোর হয়েছে, তা স্পষ্ট। তিনি সতর্ক করে দেন, “চুক্তি না হলে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হবে।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রশাসন এখনও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশাবাদী। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, ইজরায়েল ও লেবানন-এর মধ্যেও উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, যা গোটা অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
