
বেইরুট: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সরাসরি অনুরোধ সত্ত্বেও ইজরায়েল লেবাননের অন্তত দুইটি শহরে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়বড়ে হয়ে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালায়, যার ফলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এর আগেই বেইরুটে বড়সড় হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি দাবি করেছে, ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। পাল্টা হিসেবে তারা ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একাধিক এলাকায় রকেট হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর বক্তব্য, “লেবানন ও আমাদের জনগণের ওপর ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ চলবে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান এই চুক্তির আওতায় পড়ে না। অন্যদিকে ইরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ওয়াশিংটনে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে কোনও আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।
এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। একদিকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে লাগাতার সামরিক পদক্ষেপ, এই দ্বৈত পরিস্থিতি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও মাটির পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত মিলছে না, বরং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাই আরও জোরালো হচ্ছে।
