
২০২৬ সালের মার্চ মাস পৃথিবীর ইতিহাসে চতুর্থ উষ্ণতম মার্চ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও ইউরোপীয় জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১.৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রাও এই মাসে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। গড় সমুদ্র তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের সমুদ্র উষ্ণতা বিশ্বের আবহাওয়ার ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে কোথাও অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, আবার কোথাও হঠাৎ প্রবল শৈত্যপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলনের হারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু উভয় অঞ্চলেই বরফের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে বরফের বিস্তার দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং শিল্প দূষণ এই পরিস্থিতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী বছরগুলিতে এই উষ্ণতার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি, জলসম্পদ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
২০২৬ সালের এই উষ্ণ মার্চ মাস বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল যে জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বরং বর্তমানের এক বাস্তব সংকট।
