
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দিনের প্রথম প্রচার শুরু করেন তিনি এই কেন্দ্র থেকেই। এরপর তাঁর ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় আরও জনসভা করার কথা রয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে রাজ্যে “ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন” সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, “ওরা থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, আমরা চাই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।” একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যকে টার্গেট করার অভিযোগ তোলেন।
মমতা আরও দাবি করেন, বিহারে যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রেশন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি থাকতে এসব করতে দেব না।” পাশাপাশি ডিলিমিটেশন ইস্যু নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলাকে “টুকরো টুকরো” করার চেষ্টা চলছে।
সভায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই নীতির আড়ালে সব ধর্মের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এমন কোনও “স্বেচ্ছাচারী আইন” মানবে না এবং প্রয়োজনে তা বাতিল করা হবে।
এছাড়া, কেশিয়াড়ির উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক সময় জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি খারাপ ছিল, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। এখন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তা, স্কুল, উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এলাকায় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জনসভায় আদিবাসী অধিকার নিয়েও বক্তব্য রাখেন মমতা। তিনি বলেন, তাঁদের সরকার জঙ্গল ও আদিবাসীদের জমির অধিকার সুরক্ষিত করেছে এবং জোর করে জমি দখল বন্ধ করতে আইন আনা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলে এই জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে কেন্দ্র বিরোধী বার্তা দুই মিলিয়ে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেশিয়াড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
