
ইসলামাবাদ: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নজর কাড়ছে।
আল জাজিরার সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরপরই মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে অবতরণ করে। দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা রাখতে এবং ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত রাখতে। অপরদিকে ইরান তাদের ১০-দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি রয়েছে।
ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি সফল না হলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ও দূতাবাসগুলো অবস্থিত।
আলোচনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী কিছু মহল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও তার বড় প্রভাব পড়বে।
