
ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই আসনগুলোর জন্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে, যার ফলে হাজারের কাছাকাছি আবেদন জমা পড়েছে। ৩৬টি আসন বিএনপির জোটের ভাগে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, ৩০০ নির্বাচিত আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামি ও অন্যান্য জোটও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পেতে পারে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার থেকে বিএনপি কেন্দ্রীয় দফতরে ফর্ম বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিনেই ৫০০-র বেশি ফর্ম বিক্রি হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে প্রায় ৮০০ নারী নেত্রী আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন।
দলের অভ্যন্তরে এই মনোনয়ন ঘিরে ব্যাপক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বিএনপির মহিলা শাখার শীর্ষ নেত্রীসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেত্রীও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফর্ম নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আগামী ১২ মে থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধাপটি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের আওতায় এই সংরক্ষিত আসনগুলো নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা এবং প্রভাবশালী নেতৃত্বের ভূমিকা সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শক্তি ও প্রভাবের প্রতিফলনও বটে।
