
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় তাঁর নির্ধারিত কুড্ডালোর প্রচারসভা বাতিল করেছেন। শনিবার দুপুর দুইটায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পুরো কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড্ডালোর জেলায় একদিনের মধ্যে একাধিক স্থানে প্রচারসভা করার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে কুড্ডালোর, ভাদালুর, শেঠিয়াথোপে এবং তিত্তাকুডি এলাকায় সমাবেশ নির্ধারিত ছিল। তবে এর আগে একবার এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরে আবার নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিজয় বর্তমানে তাঁর প্রথম নির্বাচনে তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম দলের প্রধান মুখ হিসেবে লড়ছেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর থেকে তাঁর প্রচার শুরু হয়। এরপর তিরুচিরাপল্লী, তিরুনেলভেলি, তুথুক্কুডি এবং কারাইকুডি সহ একাধিক জায়গায় তিনি জনসভা করেন।
তাঁর প্রচারসভাগুলিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য উপস্থিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই কারণে তাঁর প্রচার অভিযানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, কুড্ডালোর কর্মসূচির জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার পর প্রশাসনের অনুমতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে ঝুঁকি বিবেচনা করে কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক প্রচার সফরে কিছু ছোটখাটো যানবাহন সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছিল। সেই কারণেই দীর্ঘ যাত্রা এবং বড় জনসমাগমকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, এটি সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এমন আকস্মিক পরিবর্তন নির্বাচনী প্রচারের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বিজয়ের সমর্থকেরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন নেতার নিরাপত্তা এবং দলের কর্মীদের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সময়মতো এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রচার এখন তীব্র গতি পেয়েছে। বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের প্রচার কৌশল এবং তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
