
দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, নারী সংরক্ষণ আইন সংশোধন এবং আসন্ন ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দিল্লিতে দলের সদর দপ্তর ইন্দিরা ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানানো হয়। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করে, এই যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে একই সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেস আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক নেতা হত্যা, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং সামরিক অভিযানের মতো ঘটনাগুলোর কড়া সমালোচনা করে। দলটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং এগুলো জাতিসংঘ সনদ ও জেনেভা কনভেনশনের আওতায় বিচার হওয়া উচিত।
বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্য নিয়েও আলোচনা হয়। কংগ্রেস দাবি করে, ভারত ঐতিহাসিকভাবে অহিংসা, নিরপেক্ষতা ও শান্তিপূর্ণ কূটনীতির পথ অনুসরণ করে এসেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি জানায়, এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে। রান্নার গ্যাস ও সার সরবরাহের ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া কংগ্রেস বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা করে। দলের মতে, কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
তবে বৈঠকের শেষে কংগ্রেস দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটে একত্রিত জাতীয় অবস্থানের আহ্বান জানায়। বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রস্তাবও দেয়, যাতে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়।
