
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর এআই বা ডিপফেক ভিডিও নিয়ে সতর্কবার্তার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই বক্তব্য আসলে সংখ্যালঘু নেতা Humayun Kabir-কে ঘিরে তৈরি হওয়া ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা। দলটির দাবি, হুমায়ুন কবীরের ভিডিও নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা চাপা দিতেই প্রধানমন্ত্রী এআই প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।
তৃণমূলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবীরের একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিতে দেখা যায়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, এবং হুমায়ুন কবীর নিজেও দাবি করেছেন যে এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো ভিডিও।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম না নিলেও অসম ও পন্ডিচেরির উদাহরণ টেনে এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও নিয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য একটি কৌশলগত বার্তা। সরাসরি বিতর্কে না ঢুকে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ ও সচেতনতা তৈরি করাই তাঁর উদ্দেশ্য হতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কোনও বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হবে না।
গত কয়েকদিন ধরে হুমায়ুন কবীরের ভিডিও নিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনীতি উত্তপ্ত। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর দল থেকেও বিভাজন দেখা গেছে, এমনকি কিছু রাজনৈতিক জোটও ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ আরও তীব্র করেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। তারা দাবি করছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যত পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
এআই প্রযুক্তি, ভাইরাল ভিডিও এবং রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের ভোটের আবহ আরও জটিল হয়ে উঠছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
