
প্রায় ১২ বছর কারাবাসের পর ফের আলোচনায় উঠে এলেন বিতর্কিত ধর্মগুরু Sant Rampal। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আশ্রমে ফিরতেই সেই দৃশ্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেউ একে তাঁর ‘ফিরে আসা’ বলছেন, আবার কেউ পুরনো বিতর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন।
২০১৪ সালের দেশদ্রোহিতা ও হিংসার মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন রামপাল। আদালত তাঁর বয়স (৭৫ বছর), দীর্ঘ কারাবাস এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৬ সালে একটি খুনের মামলাকে ঘিরেই প্রথম আইনি জটিলতায় জড়ান তিনি। পরবর্তী সময়ে বারবার আদালতে হাজিরা এড়ানোর অভিযোগ ওঠে, যার ফলে ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি হয়।
এরপর হরিয়ানার হিসারের বারওয়ালায় তাঁর আশ্রমে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রায় ১০ দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘর্ষে হাজার হাজার অনুসারী আশ্রম ঘিরে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। পুলিশের অভিযোগ, তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং নারী-শিশুকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অভিযানে কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বহু পুলিশ কর্মী আহত হন। ওই ঘটনায় রামপাল-সহ প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
২০১৮ সালে এই মামলায় ছয় জনের মৃত্যুর জন্য রামপালকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে সেই সাজা স্থগিত রাখে আদালত। মৃতদের পরিবারের বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মামলার জটিলতা আরও বাড়ে। এরপর ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।
রামপালের জীবনের পথচলাও কম চমকপ্রদ নয়। ১৯৫১ সালে হরিয়ানায় জন্ম, পেশায় ছিলেন সেচ দফতরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯০-এর দশকে আধ্যাত্মিক পথে ঝুঁকে তিনি ‘সন্ত’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর আশ্রমে মূর্তি পূজা, নেশা এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে কড়া নিয়ম চালু ছিল। তবে ২০০৬ সালে আর্য সমাজের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই আইনি সমস্যার সূত্রপাত।
দীর্ঘ কারাবাসের পর তাঁর মুক্তি ঘিরে এখন আবার প্রশ্ন উঠছে—এই ‘ফিরে আসা’ কি নতুন করে বিতর্ক ডেকে আনবে, নাকি ধীরে ধীরে শান্ত হবে পরিস্থিতি। আপাতত, রামপালের মুক্তি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
