
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের শীতলকুচি। এবার হামলার অভিযোগ উঠেছে খোদ বিজেপি প্রার্থীর উপর। শীতলকুচির বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মনের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার শীতলকুচিতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকাই সাবিত্রী বর্মনের গাড়ির উপর হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। বিজেপির দাবি, এই হামলার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে শাসক দল।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠেছে দুই পক্ষের তরফে। জানা গিয়েছে, দিনভর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। প্রচারের আগে একটি পার্টি অফিসের সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত হয়। সেই সময় মাথাভাঙার বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক সেখানে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই সময় তাদের এক কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বাসুনিয়াকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদে রাতে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। বিজেপির অভিযোগ, সেই সময়ই শীতলকুচির প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন সেখানে পৌঁছালে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তা ভাঙচুর করা হয়।
উল্লেখ্য, শীতলকুচি আগে থেকেই রাজনৈতিক সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এখানেই গুলিচালনার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছিল, যা গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, কোচবিহারের দক্ষিণেও এদিন রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা যায়। বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্র বসুকে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, এর পিছনেও তৃণমূলের ভূমিকা রয়েছে। পাল্টা হিসেবে বিজেপি সমর্থকেরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এদিনই বাঁকুড়াতেও বিজেপি কর্মীদের একটি বাসে হামলার অভিযোগ ওঠে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভা থেকে ফেরার পথে ওই বাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি বিজেপির। ঘটনায় বাসের কাচ ভেঙে যায় এবং অন্তত একজন কর্মী আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধও করা হয়।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ তুলে নির্বাচনের আগে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
