
কলকাতা: সন্তানের সঙ্গে বিদায়ের মুহূর্ত কখনও সহজ হয় না এই চিরন্তন অনুভূতিকেই যেন নতুন করে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী Swastika Mukherjee। বিমানবন্দরে মেয়েকে বিদায় দেওয়ার অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বস্তিকা জানান, বিমানবন্দরের ভিড়, চেক-ইন ও ইমিগ্রেশনের সমস্ত প্রক্রিয়ার মাঝেও একজন মা অপেক্ষা করে থাকেন সেই শেষ কয়েক সেকেন্ডের জন্য। মেয়ের একবার ফিরে তাকানো, ছোট্ট করে হাত নাড়া এই সামান্য মুহূর্তই তাঁর কাছে অমূল্য। তিনি লিখেছেন, সেই এক ঝলক দেখার জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা যায়।
অভিনেত্রীর মেয়ে অন্বেষা আবার বিদেশে ফিরে গিয়েছেন নিজের কাজের জন্য। তিনি এখন নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলেছেন, একা একাই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন। কিন্তু মায়ের কাছে সন্তান সবসময়ই ছোট এই কথাই বারবার উঠে এসেছে স্বস্তিকার লেখায়। মেয়ে কাছে থাকলে সময় দ্রুত কেটে যায়, আর দূরে চলে গেলে সময় যেন থেমে যায় এই অনুভূতিই তিনি প্রকাশ করেছেন।
নিজের শৈশবের স্মৃতিও টেনে এনেছেন তিনি। ছোটবেলায় দেরি করে বাড়ি ফিরলে তাঁর মা বলতেন, “নিজে মা হলে বুঝবি।” সেই কথার গভীরতা আজ তিনি নিজের জীবনে উপলব্ধি করছেন। এখন তিনিও একইভাবে মেয়ের জন্য চিন্তা করেন প্লেনে উঠেছে কি না, ঠিকমতো পৌঁছেছে কি না, সব কিছু ঠিক আছে কি না এইসব খোঁজ নিতে থাকেন বারবার।
স্বস্তিকার জীবনের সংগ্রামের কথাও এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। অল্প বয়সে বিয়ে, দ্রুত মাতৃত্ব, তারপর ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক সব কিছু সামলে একাই মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে একজন মা হিসেবে।
বর্তমানে অন্বেষা বিদেশে কর্মরত এবং নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলছেন। তবে দূরত্ব যতই থাকুক, মা-মেয়ের এই আবেগের বন্ধন অটুট। পোস্টের শেষে স্বস্তিকা লিখেছেন, “মা অপেক্ষা করে” যতদিন মা-বাবা আছেন, ততদিন এই অপেক্ষা, এই খোঁজ নেওয়া বেঁচে থাকে।
এই আবেগঘন লেখা অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে, কারণ এতে ধরা পড়েছে প্রতিটি মা-বাবার চেনা অনুভূতি, সন্তান দূরে গেলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কোনও শব্দেই পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না।
