
বুদাপেস্ট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বড় পরাজয়ের মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ও তাঁর দল ফিদেজ। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই ক্ষমতায় আসার পথে এগিয়ে গিয়েছে বিরোধী নেতা পিটার মাজিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি।
বিবিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯৮ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর তিসজা পার্টি ১৩৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ওরবানের ফিদেজ পার্টি পেয়েছে মাত্র ৫৫টি আসন। কট্টর ডানপন্থী আওয়ার হোমল্যান্ড পার্টি ৬টি আসন পেয়েছে। মোট ১৯৯ আসনের এই পার্লামেন্ট নির্বাচনে এই ফলাফল কার্যত রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং পিটার মাজিয়ারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরে পিটার নিজেও জানিয়েছেন, ওরবান তাঁকে ফোন করে জয় উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিজয় ভাষণে পিটার মাজিয়ার বলেন, হাঙ্গেরির জনগণ ইতিহাস তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, ভোটাররা এবার মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে সত্য ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এবার শুধু অপেক্ষা করেনি, বরং সক্রিয়ভাবে ভবিষ্যৎ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজধানী বুদাপেস্টে দানিয়ুব নদীর তীরে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে তিসজা পার্টির জয় উদযাপন করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানান।
অন্যদিকে, পরাজয় মেনে নিয়ে ওরবান বলেন, এই ফলাফল তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক। তবে তিনি জানান, বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা দেশের সেবায় কাজ চালিয়ে যাবেন এবং নতুন সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু হাঙ্গেরির রাজনীতিতেই নয়, গোটা ইউরোপীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, ভিক্টর ওরবান দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি শক্তিশালী রক্ষণশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল হাঙ্গেরিতে এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
