
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন Justice Jaymalya Bagchi। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মধ্যে নিয়মের পার্থক্য কেন এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, অন্যান্য রাজ্যে যেখানে SIR হয়েছে, সেখানে এমন জটিলতা দেখা যায়নি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন এত বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে—তা ব্যাখ্যা দিতে হবে কমিশনকে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, নিয়ম যদি এক হয়, তবে রাজ্যভেদে তার প্রয়োগে এত পার্থক্য কেন?
এই মামলায় Election Commission of India-এর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি বলেন, কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। বিহারের উদাহরণ টেনে আদালত স্মরণ করিয়ে দেয়, সেখানে বলা হয়েছিল—যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে, তাঁদের অতিরিক্ত নথি দিতে হবে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই নীতিতে পরিবর্তন কেন আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
কমিশনের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, পুরনো তালিকায় নাম থাকলেও একই ব্যক্তি কিনা তা যাচাই করতে হবে। তখনই বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, “আপনি এমন একজন মানুষকে বোঝাচ্ছেন, যিনি নিজেও ফর্ম ফিল আপ করেছেন”—অর্থাৎ সাধারণ ভোটারের জন্য এই প্রক্রিয়া অযথা জটিল হয়ে যাচ্ছে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, ভোটাধিকার শুধু একটি আইনি অধিকার নয়, এটি নাগরিকের আবেগের সঙ্গেও যুক্ত। তাই তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
শুনানিতে বিচারপতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও দেন—যদি কোনও নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ হয় এবং ১৫ শতাংশ ‘ম্যাপড ভোটার’ ভোট দিতে না পারেন, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মামলার মূল বিষয় হলো, অনেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ, যদিও তাঁদের কাছে আধার, পাসপোর্ট সহ বৈধ নথি রয়েছে। ফলে ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আবারও SIR প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। আগামী শুনানিতে কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।
