
মেরিল্যান্ড: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরও সমাধান না মেলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ফের আলোচনায় বসতে চাইলে ভালো, না চাইলে তাতেও তাঁর কিছু আসে যায় না। পাশাপাশি পূর্ব ঘোষণা মতো ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রবিবার মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, আমার কিছু যায় আসে না। না ফিরলেও আমি ঠিক আছি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত অনেকটাই ক্ষীণ।
জানা গিয়েছে, সোমবার থেকেই ইরানের সমস্ত বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চল ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেনি। তিনি বলেন, “ওরা আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তিও বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইসলামাবাদের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার পক্ষ থেকে যথাসম্ভব যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে রাজি হয়নি ইরান। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আশ্বাস না পাওয়াই আলোচনার ভাঙনের প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, ইরান এই অচলাবস্থার জন্য আমেরিকাকেই দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন অতিরিক্ত এবং অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে কোনও সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের দামের উপর চাপ বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
